আন্তঃজিলা মালামাল পরিবহন সংস্থা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতি ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারি সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে অদ্য ২৪শে জানুয়ারি’২০২১খ্রি. চট্টগ্রাম বন্দর চত্বরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। আন্তঃজিলা মালামাল পরিবহন সংস্থা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ তৌহিদুল আলমের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন অত্র সংগঠনের সভাপতি জনাব লতিফ আহাম্মদ। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কাভার্ডভ্যান ট্রাক প্রাইমমুভার পণ্য পরিবহন মালিক এসোসিয়েশনের মহাসচিব ও আন্তঃজিলা মালামাল পরিবহন সংস্থা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জনাব চৌধুরী জাফর আহম্মদ,সহ-সভাপতি এম কিবরিয়া দোভাষ, মোঃ কমর উদ্দিন সবুর, যুগ্ম সম্পাদক মোঃ তৌহিদুল আলম, মোঃ ইউসুফ মজুমদার মানিক, মোঃ আরিফুর রহমান রুবেল, আইন বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন বাবুল, দপ্তর সম্পাদক মোঃ মফিজুর রহমান মুন্না, প্রচার সম্পাদক মোঃ মনিরুল ইসলাম চৌধুরী, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোঃ নুরে আলম রনী, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোঃ সামসুজ্জামান সুমন, কার্যকরী সদস্য হাজী মোঃ জসিম উদ্দিন, জাফর আহম্মদ ভুইয়া, মোঃ হারুন উর রশিদ দিদার, মোঃ নুরুল ইসলাম সাহাব উদ্দিন, সহযোগী সদস্য মোঃ শাহাদাত হোসেন জুয়েল , চট্টগ্রাম মহানগর ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমির পারভেজ, দেওয়ান হাট ট্রাক মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মোঃ এমরান শাহীন, পাহাড়তলী সরাইপাড়া ট্রাক মিনি ট্রাক পিকআপ মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি ইসলাম খাঁন প্রমুখ।
বাংলাদেশ কাভার্ডভ্যান ট্রাক প্রাইমমুভার পণ্য পরিবহন মালিক এসোসিয়েশনের মহাসচিব ও আন্তঃজিলা মালামাল পরিবহন সংস্থা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জনাব চৌধুরী জাফর আহম্মদ সভায় তার বক্তব্যে বলে বাংলাদেশ সরকারকে প্রতিবছর ৩৩% রাজস্ব প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর ও দেশের কারখানাগুলোতে আমদানি-রপ্তানি ও উৎপাদিত পণ্য সড়কপথে দেশে বিভিন্ন গন্তব্যে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া ট্রাক. কাভার্ডভ্যান, প্রাইমমুভার ও ট্রান্সর্পোট মালিকরা করে থাকেন। পণ্য পরিবহনে আমদানিকৃত মালামাল বন্দর থেকে বুঝে নিয়ে নিদির্ষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানো এবং গুনে বুঝিয়ে দেওয়া পর্যন্ত পরিবহন ঠিকাদারদের দায়িত্ব। প্রতিদিন চট্টগ্রাম বন্দর থেকে যে পরিমাণ পণ্য খালাস হয় তার প্রায় শতভাগ কাভার্ডভ্যান, ট্রাক ও প্রাইম মুভার এর মাধ্যমে আমরা সম্পন্ন করে থাকি। বন্দরের অভ্যন্তরে গাড়িতে পণ্য লোড করার আগে আমদানিকৃত পণ্যের পরিমাণ, প্যাকিং ও ওজন ঠিক আছে কিনা এসব বিষয় আমদানিকারকের পক্ষে ট্রান্সপোর্ট প্রতিনিধিদের নিজ দায়িত্বে গণনা করে বুঝে নিতে হয়। এক্ষেত্রে কোনো প্রকার সমস্যা দেখা দিলে তা সাথে সাথে আমদানিকারক বা তার প্রতিনিধিকে অবহিত করতে হয়। নচেৎ ট্রান্সপোর্ট মালিক ও গাড়ির মালিককে সমস্ত দায় বহন করতে হয়। অথচ এই গুরুদায়িত্ব¡ পালনের জন্য ট্রান্সপোর্ট প্রতিনিধিদের বেসরকারি অফডক বা প্রাইভেট কন্টেইনার ডিপোগুলোতে প্রবেশ করতে দেওয়া হলেও বন্দরের অভ্যন্তরে বৈধভাবে প্রবেশ করার কোন সুযোগ নেই। নিকট অতীতে সিএ্যান্ডএফ এর নির্ধারিত ফরম পূরণের মাধ্যমে স্ব স্ব ট্রান্সপোর্ট প্রতিনিধিদের বন্দরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হতো। পরবর্তীকালে বন্দরের আদেশক্রমে যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া সেই সুবিধাও প্রত্যাহার করা হয়। ফলে পণ্য পরিবহন ব্যবসায়িরা প্রচন্ড ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। উল্লেখ্য যে, ওয়ান ইলেভেনের সময় পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার অভিপ্রায়ে আমার স্বাক্ষর সংবলিত সংগঠনের প্যাডে বন্দরে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করার নিয়ম প্রচলিত ছিলো। কিন্তু পরবর্তীকালে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বলাবাহুল্য, সিএ্যান্ডএফ এর জেটি সরকার একই সাথে একাধিক পয়েন্টে দৌড়ঝাঁপ করার কারণে বন্দরের অভ্যন্তরে পণ্যের লোডিং-শ্রমিক বা লেবাররা তাদের খেয়াল খুশিমতো পণ্যসামগ্রী গাড়িতে লোড করে থাকে। ফলে পণ্যবাহী গাড়িগুলো যখন মালামাল খালাস বা আনলোডের জন্য আমদানিকারকের গোডাউনে যায় তখন দেখা যায় কার্টুনে মালের পরিমাণ কম, কার্টুন ছেড়া ইত্যাদি ইত্যাদি। বন্দর অভ্যন্তরে সৃষ্ট এ ধরণের অনাকাঙ্খিত সমস্যার কারণে ট্রান্সপোর্ট মালিককে আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি নানা প্রকার হয়রানির সম্মুখীন হতে হয়। ইতিপূর্বে এ ব্যাপারে বন্দর চেয়ারম্যান ও নৌ মন্ত্রনালয়ে বিষয়টির যৌক্তিকতা তুলে ধরে আবেদন করা হয়। কিন্তু অতীব দুঃখজনক যে, ট্রান্সপোর্ট মালিক ও তাদের নিযুক্ত প্রতিনিধিদের ব্যাপারে এমন একটি প্রয়োজনীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত চরম অবহেলার পরিচয় দিয়েছেন। সুতরাং যৌক্তিক কারণে আমাদের সদস্যদের সরাসরি বন্দরের অভ্যন্তরে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করার জোর দাবি জানান। অন্যথায় উল্লিখিত সমস্যা নিরসনে আমদানিকৃত পণ্য বন্দরের বর্হিবিভাগে লোড দেওয়ার প্রয়োজনী পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানান। তিনি আরও বলে বন্দর চেয়ারম্যানকে বারংবার অনুরোধের প্রেক্ষিতে গত ৩০.১০.২০১৮ ইং তারিখে সাবেক বন্দর চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে বোর্ডরুমে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় ট্রান্সর্পোট প্রতিনিধিদের অনুকুলে বন্দরে প্রবেশের স্থায়ী পাস ইস্যুকরণের জন্য অউজ,১৯৬৮ আইনটি সংশোধন করে সরকারী আদেশ জারীর জন্য পরিচালক(নিরাপত্তা),চবক মহোদয়কে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সিদ্ধান্ত গৃহিত হলেও অদ্যবদি কোন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা অন্যতম বন্দর ব্যবহারকারী হলেও এর কোন স্বীকৃতি নেই যা একেবারেই অনাকাঙ্খিত। এমতাবস্থায়, এসব সমস্যা নিরসনের বিকল্প হিসেবে আমদানিকৃত পণ্য বন্দরের বহির্ভাগে লোড দেওয়ার প্রয়োজনী পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। অন্যথায় আগামী ০১.০৩.২০২১ ইং পর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরে সকল প্রকার পণ্যবাহি গাড়ি সরবরাহ তথ্যা পণ্য পরিবহন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হবো। যুগ্ম সম্পাদ মোঃ আরিফুর রহমান রুবেল তার বক্তব্য বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বিশ্বের অন্যান্য বন্দরের মতো গাড়ি লোডিং/আনলোডিং ত্বরান্বিত করার আধুনিক ইকুইপমেন্ট সংযোগ করার জন্য অনুরোধ জানান। আইন ও বন্দর বিষয়ক সম্পাদক জনাব মোঃ আলমগীর হোসেন বাবুল তার বক্তব্য বলেন চট্টগ্রাম বন্দরের গেইট পাস সরকারি ভাবে ৫৭.৫০ নির্ধারণ করা হলেও তার কোন বাস্তবায়ন নেই, বিভিন্ন সময় ইচ্ছে মতো ফি আদায় করা হয়। এর প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন সময় হয়রানির সম্মুখিন হতে হয়। এই সমস্যা নিরসনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বন্দরের প্রবেশ গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানান।
দি চিটাগাং চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি এবং চিটাগাং কাষ্টমস্ ক্লিয়ারিং এন্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট এসোসিয়েশান উক্ত মানববন্ধনে সহমত পোষণ করেন।